সুনামগঞ্জের ডিসিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ

News Depend Desk

প্রতিনিধিঃ ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৬ মিনিট


পোস্ট ফটো

সুনামগঞ্জের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ দায়ের করেছেন খোরশেদ আলম নামের এক পরিবেশকর্মী। তালিকায় নাম রয়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. ইলিয়াস মিয়ার। ওই অভিযোগকারীর আশঙ্কা, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও তাঁর নেতৃত্বে থাকা জেলা-উপজেলা প্রশাসনের দ্বারা পরিচালিত হলে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

অভিযোগকারী পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলমের দাবি, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মিয়া, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু দুর্নীতি ও অসদাচরণে জড়িত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনই তাদের প্রধান কার্যক্রম।

পরিবেশকর্মীর অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শাহ রুবেলকে নাগালে পেয়েও পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে, হাইকোর্টের রায় অমান্য করে এবং বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে তাঁর নামে ইজারা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লিখিত বিষয়াদি অনুসন্ধানে সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর ২ নম্বর বালুমহাল ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে উল্লিখিত হত্যা মামলার আসামি শাহ রুবেলকে প্রশ্রয় দেওয়া ও বালুমহালের ইজারা হস্তান্তর-সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য আড়ালের প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যা মামলার আসামি হিসেবে থানা পুলিশের বিবৃতিতে শাহ রুবেলকে পলাতক দেখানো হলেও তিনি কী করে সরকারি মহাল ইজারা নিলেন, জেনেশুনে কেন তাঁকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি–এমন অনেক প্রশ্ন উঠছে।

ইজারা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা নিয়ে তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের ছত্রছায়ায় ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন রুবেল। হস্তান্তর-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এটি তাঁর কাছে ‘হস্তান্তর করা হয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং বালুমহাল হস্তান্তরকালে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেদিন সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না রুবেল। তাঁর পরিবর্তে নাসির মিয়া নামের স্থানীয় একজনের কাছে ইজারাদার রুবেলের বালুমহাল হস্তান্তর করা হয়। অথচ এ-সংক্রান্ত বৈধ কোনো নথি সংযোজন করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহ রুবেলকে আড়ালে নিরাপদে রাখতেই সরকারি নথিতে তথ্য বিভ্রান্তি ঘটানো হয়েছে।

পরিবেশকর্মীর ভাষ্য মতে, নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিসি, ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যায়ে একাধিক বদলি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘অদৃশ্য শক্তির ইশারায়’ বহাল তবিয়তে আছেন। এ নিয়ে তারা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন–এমন গুঞ্জনও রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগকারী খোরশেদ আলম বলেন, ‘এমন কর্মকর্তাদের দ্বারা বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’ এছাড়া আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বেপরোয়া বালু লুটপাটে জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্টতা এবং অবৈধ সুবিধা প্রাপ্তির বিনিময়ে বালু সিন্ডিকেটকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতা ও শ্রমিকরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মিয়া বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে রুবেল ইজারা পেয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি এক্ষেত্রে বিবেচ্য কিনা–এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে এসব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। জেলা প্রশাসকের প্রশ্ন, ‘রুবেল কী আপনাদের কাছে আপত্তি জানিয়েছে এ ব্যাপারে? সেটি না হলে আপনাদের সমস্যা কী?

Link copied